নারীদের ওপরে ধর্ষণ নিপীড়ন এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ

Posted by

·

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে গণ পরিসরে ধারাবাহিকভাবে নারীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা ঘটছে। এগুলোর মধ্যে ঢাকার শ্যামলীতে ফুটপাথে যৌন কর্মীদের ওপর হামলা, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে হিজড়া জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, রংপুর ও জয়পুরহাটে মেয়েদের ফুটবল খেলার মাঠে হামলা,মাদ্রাসায় ছাত্র ধর্ষণ, আদিবাসী নারীর উপর ক্রমবর্ধমান নিপীড়ন উল্লেখযোগ্য। ।৪ ই মার্চ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় বাসার নিচের দোকান থেকে চকলেট কিনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় তিন বছরের শিশু ।

হামলাগুলো নিয়ে সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী মানুষদের ভেতর অসন্তোষ ও প্রতিবাদ দেখা গেলেও সরকার থেকে এ’নিয়ে এখনও কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অন্তর্বতীকালীন সরকারের তিন নারী উপদেষ্টা এগুলো নিয়ে নিশ্চুপ। উপরন্তু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম ভিক্টিম নারীদের দোষারোপ করে হামলাকারীদের উস্কানি দিতে দায়িত্বজ্ঞানহীনের মত গণমাধ্যমেবক্তব্য দিচ্ছেন।

এরকম অবস্থায় আমরা অন্তর্বতীকালীন সরকারকে হুশিয়ার করতে চাই মোরাল পুলিশিং ও ভুক্তভোগীকে দোষারোপের সংস্কৃতিকে শক্তিশালী না করে রাষ্ট্রকে নারী ও অপরাপর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ করার কাজে মন দিন।

আমরা আরও দাবী করিঃ
১. নারীনির্যাতন উস্কানিদাতা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অপসারণ করুন।
২. ধর্ষক এবং নারী নির্যাতনকারী ক্রিমিনালদের আইনের আওতায় আনুন।
৩. পুলিশের পোশাকের রং পাল্টানোর মত তামাশা না করে তাদের জনগনের প্রতি দায়বদ্ধ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলুন।
৪. নারী এবং সমস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী, সহায়তা ডেস্ক এবং হটলাইন চালু করুন।
৫. রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র বাহিনী (যেমন, পুলিশ ও আর্মি) এবং থানা ও ক্যানটনমেন্টের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন এবং ন্যায়বিচারের গতিশীলতা নিশ্চিত করতে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষ দল গঠন করুন।
৬. প্রতিটি থানায় ধর্ষণ, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকারদের সহায়তার জন্য মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ বাধ্যতামূলক করুন।
৭. শ্রেণী, ধর্ম, এথনিসিটি বৈষম্য় না করে নারীদের ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য আইনি সহায়তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।
৮. অতি দ্রুত বাংলাদেশে প্রতিটি কোনায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে গণহিংসা ও লিঙ্গীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু করুন।

Across various locations in Bangladesh, there has been a series of mob attacks targeting women in public spaces. Notable incidents include attacks on sex workers on the footpath in Shyamoli, Dhaka, attacks on the hijra community at Cox’s Bazar beach, attacks on girls in football fields in Rangpur and Joypurhat, the rape of madrasa students, and the increasing oppression of indigenous women. On March 4, in Barlekha Upazila of Moulvibazar, a three-year-old child was raped after going to a store below her home to buy chocolate.

Despite public outrage and protests, particularly from those who believe in women’s rights, the government has yet to take any effective measures. The three female advisers in the interim government have remained silent on these issues. Instead, the Home Affairs Adviser, Jahangir Alam, has irresponsibly engaged in victim-blaming, making statements in the media that shift blame onto the victims while encouraging perpetrators.

Given this situation, we want to warn the interim government: stop strengthening the culture of moral policing and victim-blaming. Instead, the state must focus on ensuring the safety of women and other marginalized communities.

We further demand:

1. The removal of the Home Affairs Adviser, who is inciting violence against women.
2. That rapists and criminals involved in violence against women be brought to justice.
3. Instead of making a mockery by changing police uniforms, reform the police force into a truly accountable institution that serves the people.
4. The deployment of a special force, help desks, and hotlines to ensure the safety of women and all minority communities.
5. The formation of a special team under the Ministry of Women and Children Affairs and the Ministry of Social Welfare to monitor and evaluate the activities of state security forces (such as police and army), police stations, and cantonments to ensure justice is delivered efficiently.
6. The mandatory appointment of psychologists in every police station to support survivors of rape, harassment, and abuse.
7. The assurance of legal aid and protection for women and minority communities without discrimination based on class, religion, or ethnicity.
8. The immediate launch of a nationwide state-led awareness campaign against mob violence and gender-based violence in every corner of Bangladesh. 

প্রেস রিলিজ

৭ই মার্চ, ২০২৫, শুক্রবার

ঢাকা, বাংলাদেশ

জরুরী বার্তা

নারীর ওপর ধর্ষন, নিপীড়ন এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ

বাংলাদেশের সকল নারীদের নিরাপত্তা এখন একটি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশজুড়ে সমাজের সকল স্তরের নারীদের বিরুদ্ধে হয়রানি, নির্যাতন, ধর্ষণ, গণপিটুনি ও সাইবার বুলিংয়ের উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে। এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি নারীদের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত সহিংসতা ও ভয় দেখানোর ধারাবাহিক প্যাটার্নের অংশ।

এর মাঝে ঢাকার শ্যামলীতে যৌনকর্মীদের ওপর হামলা, লালমাটিয়ায় দুই শিক্ষার্থীর ওপর জনসমক্ষে নির্যাতন ও হয়রানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরী স্টাফের হাতে এক শিক্ষার্থীর হয়রানীর ঘটনা, কক্সবাজারে হিজড়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, রংপুর ও জয়পুরহাটে মেয়েদের ফুটবল মাঠে আক্রমণ, আদিবাসী নারীদের ওপর অব্যাহত নিপীড়ন এবং ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নারীদের বিরুদ্ধে প্রতিদিনের হয়রানী, এমনকি নিষ্ঠুর মব এটাক উল্লেখযোগ্য।

নারীদের প্রতি সহিংসতার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও প্রতিশোধমূলক হামলা, হুমকি ও সংগঠিত মব এটাক এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যা গণ-আন্দোলন এবং জনগণের বিচার, স্বাধীনতা ও বৈষম্যহীনতার দাবীর মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে, এখন পর্যন্ত তাদের প্রতিশ্রুতি ও আকাঙ্ক্ষা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। নারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ তারা গ্রহণ করেনি, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনেনি। বরং তাদের নিষ্ক্রিয়তা এসব অপরাধকে আরও উসকে দিয়েছে। সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তা খুবই উদ্বেগজনক, যেন নারীদের ওপর হামলা ও ভয় দেখানো স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য ঘটনা।

সরকারের প্রতিক্রিয়াগুলো কেবলমাত্র মুখের কথায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সাইদা রিজওয়ানা হাসানের বিবৃতিগুলো নারীদের আশ্বস্ত করার পরিবর্তে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।ভুল তথ্য, আইন ও বাস্তবতা সম্পর্কে বিভ্রান্তি তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, যা কিনা ঘটনার বিচার না করে বরং অপরাধীদের রক্ষা করেছে।

নারী এবং অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর ওপর এই সংঘবদ্ধ হামলা, প্রকাশ্য বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ও উস্কানিমূলক কার্যক্রম অবিলম্বে অবসানের দাবী জানাই।

সাংবাদিকতার নৈতিকতার পরোয়া না করা গণমাধ্যমের দায়িত্বহীন আচরণ—নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা আর এর প্রতিবাদ ভুলভাবে দেখানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

সর্বোপরি সহিংসতাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে, যা আমরা কখনও মেনে নেব না।

আমরা দাবী করছি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে অবিলম্বে অপসারণ করা হোক। তার দায়িত্বহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য জনমানুষের আস্থা নষ্ট করেছে। আমাদের দাবী, সকল শ্রেণি, ধর্ম, জাতি ও পরিচয়ের নারী যেন নিরাপদে ও নির্ভয়ে তাদের অধিকার চর্চা করতে পারে।

আমরা চুপ থাকব না। আমরা আমাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাব, যতক্ষণ না আমরা একটি নিরাপদ, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে পারি।

আমাদের দাবী :

নারী নির্যাতনের উস্কানিদাতা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে তার পদ থেকে অপসারণ করতে হবে ।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবশ্যই তার শাসন কাঠামোর দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে।

সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নারীদের বিরুদ্ধে চলমান গণহামলা, গণপিটুনি, টার্গেটেড আক্রমণ, হয়রানী এবং ধর্ষণের ঘটনা প্রতিরোধে ব্যর্থতার দায় নিতে হবে এবং এগুলো রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

গণমাধ্যমকে ভুল তথ্য প্রচার বন্ধ করতে হবে এবং জনমত গঠনে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সাইবার বুলিং বন্ধ ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

নারী সহিংসতার বিরুদ্ধে নারীরা

আরও তথ্যের জন্য: https://www.facebook.com/share/15ZGDKfqiX/