ভালোবাসার অধিকারের জন্য জীবন দেওয়া জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব রাব্বি তনয়ের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিশেষ দিন ঘোষণা করা হয়নি। অথচ ২৫ এপ্রিলকে “ভালোবাসার শহীদ দিবস” হিসেবে প্রতীকীভাবে স্মরণ করা যেতে পারে, এই বিশ্বাস থেকে যে ভালোবাসা কোনো অপরাধ নয়, বরং একটি মৌলিক মানবিক অধিকার। জুলহাজ মান্নান এবং মাহবুব রাব্বি তনয়ের হত্যাকাণ্ড কেবল দুটি ব্যক্তির মৃত্যু নয়; এটি ছিল এমন এক বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে ভালোবাসা ও পরিচয়ের প্রশ্ন নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে। এটি মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতার চেতনা কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যক্তিগত জীবনের স্বাধীনতাও তার অংশ। ২৫ এপ্রিল সমাজে বিদ্যমান নীরবতা ও ভয়কে চ্যালেঞ্জ করে, যেখানে ভিন্নধর্মী বা প্রচলিত ধারণার বাইরে থাকা ভালোবাসাকে অস্বীকার করা হয়। এই স্মরণ একটি নৈতিক অবস্থান তৈরি করে, যেখানে রাষ্ট্র ও সমাজকে জবাবদিহির মুখোমুখি করা হয় এই প্রশ্নে, কেন মানুষ তার ভালোবাসার কারণে নিরাপত্তাহীন থাকবে। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শিক্ষা হয়ে দাঁড়ায়, মানবিক মর্যাদা, সমতা এবং ভালোবাসার অধিকার কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, বরং সবার।
জুলহাজ ও তনয়ের স্মৃতি তাই কেবল শোক নয়; এটি একটি আহ্বান, স্বীকৃতির, ন্যায়ের এবং পরিবর্তনের।
যে দেশের মানুষ ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে, তারা যে ভালোবাসার জন্যও জীবন দেবে, এটাই তো আমাদের নিয়তি।
জুলহাজ ও তনয়, বাংলাদেশে ভালোবাসার অধিকারের প্রথম শহীদ, আমরা তোমাদের ভুলব না।
বিস্তারিত পড়ুনঃ https://bdfeministarchives.org/…/xulhaz-tonoy…/
